স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎ ভোগান্তিতে পড়েছেন পল্লী বিদ্যুতের প্রায় ৪ লাখ গ্রাহক। অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে পড়ালেখা ও বাসা-বাড়ির দৈনন্দিন কাজকর্ম, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করছেন ভুক্তভোগীরা। গত কয়েকদিনের টানা লোডশেডিংয়ের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন মানুষ।
প্রতিদিন ১৫-১৮ ঘণ্টা লোডশেডিং থাকায় কোন কাজই ঠিকভাবে করা যাচ্ছে না। সবকিছু বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে স্থবিরতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে আগামী ২১ এপ্রিল শুরু হতে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়েছেন বেকায়দায়। একদিকে তাপদাহ, অন্যদিকে বিদ্যুৎহীন অবস্থা। দুইয়ে মিলে অস্বস্তি বোধ করছেন বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য মতে, সুনামগঞ্জে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহক ৪ লাখ ৫৩ হাজারেও বেশি। এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৪ লাখ গ্রাহক ছাড়া পিডিবির সুনামগঞ্জ শহর এলাকার ৩৫ হাজার ও দিরাই জোনের আওতায় ১৮ হাজার গ্রাহক রয়েছে।
সুনামগঞ্জের ছাতক ও শহরতলীর ইকবালনগর গ্রিড থেকে পিডিবির ২টি এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ১০টি উপকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। বিদ্যুৎ ভোগান্তির শিকার মানুষেরা জানিয়েছেন, গোসল করা থেকে শুরু করে খাওয়া-দাওয়া, ঘুম, কথা বলা, পড়ালেখা, গৃহস্থালীর কাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য, কল-কারখানা, চিকিৎসা, পরিবহণ, বিনোদন, কৃষি ও সেচসহ সর্বক্ষেত্রে বিদ্যুতের প্রয়োজন। ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রায় ১৮ ঘন্টাই বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকছে মানুষ। বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিং থাকায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ভুক্তভোগীদের।
জগন্নাথপুরের রানীগঞ্জ ইউনিয়নের নারিকেলতলা গ্রামের রহিমা আক্তার বলেন, নাওয়া-খাওয়া-ঘুম সবক্ষেত্রেই বিদ্যুতের প্রয়োজন। সারাদিনে দুই ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকছে না। রাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ ছাড়া এভাবে থাকাটা অসম্ভব।
জগন্নাথপুর পৌরসভার ভবানীপুর গ্রামের এসএসসি পরীক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার জানিয়েছেন, বিদ্যুতের আলোয় পড়ালেখা করে আমরা অভ্যস্ত। অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে পড়ালেখায় মন বসছে না। সামনে পরীক্ষা। বিদ্যুতের কারণে পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয় হতে পারে।
ধর্মপাশা গ্রামের শাখাওয়াত হোসেন বলেন, চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে চার-পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে। ১৮ থেকে ১৯ ঘণ্টাই অন্ধকারে থাকছে মানুষ। ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন কাজকর্ম সবকিছুতেই বিদ্যুতের দরকার। বিদ্যুৎ ছাড়া চলে না।
জামালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিধান ভূষণ চক্রবর্ত্তী বলেন, আগামী ২১ এপ্রিল থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু। এ সময়টা ছাত্রছাত্রীদের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুতির সময়। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকাটা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত সৃষ্টি করবে। অতিরিক্ত লোডশেডিং শুধু পড়ালেখা না, সার্বিকভাবেই সমস্যা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে বিশেষ নজর দেওয়ার অনুরোধ করছি।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) জগন্নাথপুরের আবাসিক প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) আজিজুল ইসলাম আজাদ বলেন, পৌর এলাকায় বিদ্যুতের প্রায় ৯ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৩ মেগাওয়াটেরও কম। জ্বালানি সংকটে দেশের বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ আছে। মূলত উৎপাদন সংকটের কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মিলন কুমার কুন্ডু জানিয়েছেন, সুনামগঞ্জে দিনের বেলায় ৩৫ থেকে ৪৫ মেগাওয়াট এবং রাতের বেলায় ৫৫ থেকে ৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকে। চাহিদার ৪০ ভাগ বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ৬০ ভাগই লোডশেডিং হচ্ছে। আমরা যতটুকু পাই ততটুকুই বিতরণ করি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
পল্লী বিদ্যুতের মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিং
এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ ৪ লক্ষাধিক গ্রাহকের ভোগান্তি
- আপলোড সময় : ২০-০৪-২০২৬ ০৯:৪০:৪৮ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২০-০৪-২০২৬ ০৯:৪২:১৫ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ